ডেভিন প্রযুক্তি বর্তমান প্রযুক্তি দুনিয়ার এক নতুন বিস্ময়। প্রযুক্তিকে কিভবে আরও সহজ করা যায় সেই লক্ষ্যকে সামনে নিয়েই বোধহয় ডেভিন প্রযুক্তির আগমন।
আরো পড়ুন: চ্যাট জিপিটি: প্রযুক্তির এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন।
এই প্রযুক্তিটি আবির্ভাবের পর এমন কোন প্রোগ্রামার নেই যে কিছুটা হলেও বিচলিত হয়নি বা সত্যি করে বলতে গেলে ভয় পাননি। তো এর মধ্যে কি এমন আছে যেটা দেখে এত ভয় পাওয়ার কথা আসছে। চলুন এটা সম্পর্কে আপনাদেরকে কিছুটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করি।
ডেভিন প্রযুক্তি কি?
ডেভিন মূলত আমেরিকার cognition সংস্থা কর্তৃক তৈরিকৃত একটি উন্নত এআই সফটওয়ার প্রযুক্তি। এই সংস্থাটি বিশ্বের প্রথম এআই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করে পৃথিবীতে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারটির অনেকগুলো বিশেষত্বের মধ্যে কয়েকটি হল- এটি নিজে নিজেই লিখতে পারে, কোডের মধ্যে বিভিন্ন ভুল ধরতে পারে, এটি আপনার কম্পিউটারটিকে ভাইরাসের হাত থেকেও রক্ষা করতে পারে, এটি বিভিন্ন ভিডিও বানাতে পারে এমনকি এটা একটি মাত্র সিঙ্গেল ক্লিকের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার প্রোগ্রাম তৈরি করে দিতে পারে।
আজকে আমি আপনাদের সাথে দুইটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করব সেটা হচ্ছে
১. প্রথমে পাঁচটা কারণ উল্লেখ করবো যে পাঁচটি কারণে এই প্রযুক্তি দেখে আমি মূলত ভয় পেয়েছিলাম। এর বাইরেও আরো অনেক কারণ থাকতে পারে। যেগুলো নিয়ে আজকে আলোচনা করবো না। অন্যকোন দিন সেগুলা নিয়ে আলোচনা হবে আশা করি।
২. যারা একদম নতুন প্রোগ্রামার, ফ্রেশ প্রোগ্রামার আছেন, তারা কিভাবে এর থেকে মুক্তি পেতে পারে, তারা কিভাবে বর্তমান এআই যুগেও তাদের প্রফেশন নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে সে বিষয়ে পাঁচটি দিক নির্দেশনা।
যে পাঁচটা কারণে আমি সত্যিই ভয় পেয়ে গেছিলাম।
১ম কারণ-ডেভিন
কোডিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়া যাবে কিনা বা ক্যারিয়ার হিসেবে এটা ভবিষ্যতে আর টিকবে কিনা। শুরুতেই আমি যে বিষয়টা নিয়ে বলতে চাই সেটা হচ্ছে, অন্যসব এআই রিলেটেড টুলস যেমন চ্যাট জিপিটি বা এর আশেপাশে অটো জিপিটি বা এর আগে ছিল কো-পাইলোট তাদেরকে আমি প্রোডাক্টিভিটি টুলন হিসেবে চিন্তা করতাম কিন্তু ডেভিন এআই বলতেছে আমি কোন প্রোডাক্টিভিটি টুলস না। আমি এক কথায় সরাসরি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। আমি ঠিক তোমার মত করে কাজ করতে পারবো।
আবার তোমার সাথে বসেও কাজ করতে পারবো। তোমাকে হেল্পও করতে পারবো। তো এটা দেখে কার না ভয় পাওয়ার কথা বলেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে ভেবেছিলাম এই জাতীয় এআই রিলেটেড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আসতে আরো 30 বছর বা ৫০ বছর লেগে যেতে পারে কিন্তু সেটা যে এত দ্রুত চলে আসবে এটা ভাবা আসার জন্য বেশ কঠিন ছিল। এই ডেভিন এআই প্রযুক্তি যেভাবে কাজ করা শুরু করেছে সেটা দেখে মনে হচ্ছে নেক্সট ০৫ থেকে ০৭ বছরের মধ্যে এরকম আরো অনেক টুলস চলে আসবে যা আপনাকে সত্যিই বিপদে ফেলে দিতে পারে। তাহলে কিন্তু অবাক হওয়ার কোন কারণ থাকবে না।
২য় কারণ-ডেভিন
সবচেয়ে বড় যে কারণে আমি ভয় পেয়েছি সেটা হচ্ছে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আমি কিভাবে কাজ করি। আমি যে বিষয়গুলো জানি আমি সেই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করি। যেমন নতুন কোন একটা জিনিস আসলে আমি সেটাকে খুঁজে বের করে সেটার সম্পর্কে ডকুমেন্টেশন পড়ে দেখি এবং সেটা আমি কোন একটা প্রজেক্ট এ এপ্লাই করার চেষ্টা করি। এপ্লাই করতে গিয়ে যখন কোন একটা এরর পাই সেটা আবার ফিক্সড করার চেষ্টা করি।
যদি একা সেটা ফিক্সড বা সমাধান করতে না পারি তাহলে সেটার জন্য আবার আমি গুগলে সার্চ দেই। আরও কোন উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। সেখান থেকে আইডিয়া এনে এদেরকে আমি ফিক্সট করতে চাই। আবার যদি ফিক্সট করতে না পারি তাহলে কখনো সেখানে ব্রেক পয়েন্ট দেই বা ডিবাগ করি। দেখি ঠিক মতো করে কাজ হয়েছে কিনা এবং কোড পড়ে পড়ে এই জিনিসগুলো ফিক্সড করে করে আমি কাজ করি। আর ভয়ের জায়গাটা হচ্ছে এখানেই কারণ ডেভিন এই সবগুলো কাজ এখন নিজেই করা শুরু করেছে। এখনকার দিনে আপনি হয়তো ডেভিনকে এত পাকাপোক্তা ভাবছেন না কিন্তু খুব শীঘ্রই এটা যে অনেক বেশি পাকাপোক্ত হয়ে উঠবে এতে কোন সন্দেহ নাই।
৩য় কারণ-ডেভিন
ডেভিন এর এখন যে এফিসিয়েন্সি বা দক্ষতা আছে এটা নিয়ে কিন্তু সে বসে থাকবে না। দিনের পর দিন সে নিজেকে আপডেট করবে। নিত্য নতুন কোডিং সম্পর্কে সে প্রশিক্ষণ নিতেই থাকবে। হয়তো আগামী কয়েক মাস বা আগামী বছর বা তার পরের বছর থেকেই সে তার আসল রূপ দেখাতে শুরু করবে। সে যদি এখন 13% কোডিং রিলেটেড ইস্যু বা সমস্যা সলভ করতে পারে তাহলে আগামী মাসে বা আগামী বছরের হয়তো ২০-৩০% সমস্যা বা ইস্যু সলভ করে দিবে। তারপরের বছরের হয়তো ৪০ থেকে ৫০।
তারপরের বছর গিয়ে সেটা হয়তো দাঁড়াবে ৬০-৭০%। তখন অবস্থাটা কি দাঁড়াবে সেটা একবার ভাবুন তো। সুতরাং এটা নিয়ে তো অবশ্যই চিন্তা ভাবনা করা দরকার আছে। বিশেষ করে যারা প্রোগ্রামার তারা যদি এর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারে তাহলে ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার নিয়ে তাদেরকে হুমকির মুখে পড়তে হবে এটা নিশ্চিত। যারা বেশ সাহসী উদ্যমী এবং কর্মঠ তারা অবশ্যই এটাকে সাথে নিয়েই নিজেদেরকে আরো বেশি দক্ষ করে তুলবে।
৪র্থ কারণ-ডেভিন
যে কারনেই এআই কে ভয় পাওয়া যেতে পারে সেটার অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে, এই আই কিন্তু টায়ারডলেসভাবে কাজ করতে পারে অর্থাৎ এ কখনো ক্লান্ত হবে না এবং এটা এই ওয়েবসাইট নিজেরাই বলতেছে। সে টানা কাজ করে যেতে পারবে। একজন মানুষ কতক্ষণ কাজ করতে পারে বলেন তো। একজন মানুষ হয়তো সপ্তাহে ০৫ দিন কাজ করতে পারে। কোন অফিসে একজন ব্যক্তি হয়তো দিনে সর্বোচ্চ আট ঘন্টা কাজ করতে পারে। আবার সব সময় যে ৮ ঘন্টা কাজ করতে পারে তাও নয়। অর্থাৎ একচুয়াল কোডিং হয়তো আপনি আমি তিন থেকে পাঁচ ঘন্টা করতে পারি। আর এ আই কিন্তু ২৪ ঘণ্টাই কাজ করতে পারে।
তার কোনো খাওয়া-দাওয়া করতে হয় না, বাজারে যাওয়া লাগে না, বন্ধুদের সাথে আড্ডাও দেওয়া লাগে, বাথরুমেও যাওয়া লাগবে না বা অন্য কোন কাজ তার করতে হয় না। সো সে কন্টিনিউয়াসলি কাজ করতে পারে। একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আমি কয়েকটা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ বা কয়েকটা হাতেগোনা টেকনোলজি নিয়ে কাজ করি বা আরো হয়তো দুই একটা ল্যাঙ্গুয়েজ মোটামুটি জানি সেগুলো লাগলে ব্যবহার করি। কিন্তু এআই এর সে ধরনের কোন লিমিটেশন নেই। সে ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কাজ করতে পারবে, এ্যাপ ডেভেলপার, গেম ডেভেলপার হিসেবে কাজ করতে পারবে। এক কথায় যত সব টেকনিক্যাল ফিল্ড আছে এমনকি মেশিন লার্নিং বা এ আই ফিল্ডেও সে কাজ করতে পারবে। অর্থাৎ তার ক্ষেত্র অনেক বড়।
৫ম কারণ-ডেভিন
লাস্ট যে কারণে আমি ভয় পেয়েছি সেটার কারণ হচ্ছে এই যে ডেভিন প্রযুক্তি এর পিছনে যে টিমটা আছে এরা এক একজন পৃথিবীর সেরা সেরাস ফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। এরা দুনিয়ার সেরা সেরা কোড প্রোগ্রামার। কোড ফোর্সেস-(codeforces) যেটা কম্পিটিটিভ প্রোগ্রাম এর অন্যতম সেরা একটি প্ল্যাটফর্ম। সেটার হাইয়েস্ট রেংকিং আছে ওদের দুজন কো ফাউন্ডার।
এছাড়া ওভারঅল ওদের যে ফাউন্ডিং টিমটা আছে ওরা দশবার আইওআই (ioi) আপনারা যদি নাও জানেন মানে দুনিয়ার ওয়ান অফ দা সেরা কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর গোল্ড মেডেলিস্ট ওরা। সো এই টাইপের লোকজন যদি কোন একটা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করে তখন এটা নিয়ে তো কিছুটা নড়াচড়া হবেই। আর কোন কারনে যদি ডেভিন এই কাজটি করতে নাও পারে তারপরও কয়েকদিন পরে মিউজিক এ আই বা কিছু একটা নিয়ে আসবে অর্থাৎ এআই এর এই অভ্যুত্থান এটা কিন্তু আসলে কোনভাবে কমবে না বরং দিনকে দিন বেড়ে যাবে।
সো আমরা অলরেডি এই জগতে যারা কাজ করতেছি বা যারা ফ্রেশ এই প্রোগ্রাম এর জগতে আসতে চাচ্ছেন তাদেরকে কিন্তু একটু অন্যভাবে চিন্তা করতে হবে। আর সেই রিলেটেড পাঁচটা স্টাটেজি আমরা শেয়ার করব। তবে তার আগে আপনি যদি নিজেকে একজন সিরিয়াস প্রোগ্রামার হিসেবে নিজেকে স্টবলিশ করতে চান তাহলে মার্চের ২৪/২০২৪ এর মধ্যে তারিখের মধ্যে অবশ্যই চলে যান phitron.io তে এবং সিএসসির ফান্ডামেন্টাল জিনিসগুলি পোক্তভাবে শেখার পাশাপাশি কম্পিটিটিভ প্রোগ্রাম এ যদি ভালো র্যাঙ্ক পর্যন্ত নিজেকে নিয়ে যেতে পারেন তাহলে মার্চের ২৪ এর মধ্যে তারিখের ঝাঁপিয়ে পড়ুন এবং সেখানে এনরোল করে আপনি যদি ডেডিকেটেডলি হার্ড ওয়ার্ক করতে পারেন তাহলে একটা সার্টেন স্টেজ পড়ে এআই এবং মেশিন লার্নিং এর উপর বিস্তর একটা কোর্স এর এক্সেসও আপনি পেয়ে যেতে পারেন।
এবার আসা যাক আপনারা যারা নতুন প্রোগ্রামার অথবা ইউনিভার্সিটিতে মাত্রই শিখতেছেন বা সামনে প্রোগ্রামিং এর জগতে আসবেন ভাবছেন সেই তারা কিভাবে তিন চার পাঁচ বছরের পরে এই প্রোগ্রামিং ফিল্ড ক্যারিয়ারে ঢুকতে গিয়ে এআই এর সাথে কমপিট করবেন সেই রিলেটেড ০৫ টেকনিক আমি শেয়ার করব।
নতুনদের জন্য আমার সাজেশন বা দিকনির্দেশনা
আপনারা যারা নতুন এই সেক্টরে আসতে চাচ্ছেন বা এই সেক্টরের স্বপ্ন দেখছেন তাদের উদ্দেশ্যে আমি একটি কথাই বলবো সেটা হচ্ছে কোন প্রযুক্তি দেখে যদি আপনি শুরুতেই হাল ছেড়ে দেন তাহলে আপনি কখনোই অনলাইনে সফলতা অর্জন করতে পারবেন না বরং বাজারে আসা যেকোনো প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে নিজেকে আরও আপডেট করুন। আপনাদের জন্য আমার কিছু সাজেশন আছে….
নাম্বার ওয়ান-ডেভিন
আপনি যে একজন প্রোগ্রামার এবং প্রোগ্রামার হিসেবে আপনি যে ভবিষ্যতেও অন্যান্যদের সাথে টিকে থাকতে পারবেন এমনকি এই এআই এর সাথেও আপনি কমপিট করতে পারবেন এই বিশ্বাসটা আপনার মধ্যে থাকতে হবে। মুল কথা আপনাকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আজ থেকে ১৫ বা ২০ বছর আগে রিয়েক্ট বা অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এমনকি ওয়েব ডেভেলপমেন্টও এতটা স্ট্রং ছিল না। তখন যেটা স্ট্রং ছিল ডেক্সটপ অ্যাপ্লিকেশন বা বিভিন্ন ধরনের ডাটাবেজ ছিল বা ওরাকল বা এটা সেটা ছিল। তখনকার দিকে যেটা দরকার ছিল ওটা তখনকার মানুষ কিন্তু ঠিকই কাজ করতে পারছে।
এখনকার দিকে মানুষ কি করতেছে রিয়েক্ট বা ফ্লাটার বা নেক্সট জেএস বা এই টাইপের জিনিসগুলো শিখে কিন্তু কাজ করতে পারতেছে। তেমনিভাবে পাঁচ বছর পরে তখনকার সিচুয়েশনে ওপরে যে জিনিসগুলো থাকবে তখনকার সময়ের পোলাপান কিন্তু ঠিকই ওইসব বিষয়গুলো শিখে দক্ষতা প্রমাণ করে কাজ করতে পারবে। সুতরাং আপনারা যারা হার্ড ওয়ার্কার আছেন, সিরিয়াস আছেন তাদের আসলে টেনশন করার কোন কারণ নাই। বাকি যারা হুজুগে বাঙালি আছেন না বুঝে লোভে পড়ে এই জায়গায় আসছেন প্রেগ্রামিংয়ের জগতে কিন্তু হার্ডওয়ার্ক করার তাদের কোন মেন্টালিটি নাই বা লেগে থাকার কোন মন-মানসিকতা নাই, শেখার কোন আগ্রহ নাই তারা কিন্তু আবার ভয়ে ভয়ে চলে যাবে। মূলত যারা সিরিয়াসলি হার্ড ওয়ার্কার তাদের অপরচুনিটি সব সময় থাকবে। যতই এআই আসুক বা অন্য কোন কিছু।
নাম্বার টু -ডেভিন
এই যে এআই সফটওয়্যার যারা আজ ডেভিন বানিয়েছে, কয়েকদিন পরে আরেকজন হয়তো কেবিন বানাবে বা যেটাই বানাক না কেন এগুলো বানিয়ে কিন্তু ওরা ঝুলিয়ে রাখবে না। এগুলোকে কিন্তু বিভিন্ন কোম্পানিকে ইউজ করতে হবে। তো কোম্পানিতে এগুলো কারা ইউজ করবে। সেটা কে বুঝায় দিবে অথবা ওটাকে যে মডিফাই করা লাগবে সেটা কে কমান্ড দিয়ে দিবে। নিশ্চয়ই কিছু না কিছু মানুষ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার দরকার আছে। হয়তো আপনার কাছে মনে হতে পারে আগে যেখানে দশজন সফটার ইন্জনিয়ার লাগতো এখন হতে পাঁচ জন লাগবে। সেটা আপনার মনে হতেই পারে কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভূল ধারনা। কেন এমনটা বললাম সেটা নাম্বার থ্রিতে ক্লিয়ার করছি।
নাম্বার থ্রি -ডেভিন
আপনি যদি একটু ভালো করে খেয়াল করেন আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগের আমরা যে টাইপের সফটওয়্যার বানাতাম এখন কিন্তু সেই টাইপের সফটওয়্যার বানাচ্ছি না। এখন আরো কমপ্লেক্স বা জটিল জাতীয় সফটওয়্যার বানাচ্ছি। এআই বা এই জাতীয় টুলস গুলো যখন আরো বেশি ডেভেলপ হবে বা উন্নত হবে তখন কিন্তু সফটওয়্যার এ কমপ্লেস্কিটি আজকের মত থাকবে না। তখন আরো বেশি কমপ্লেস্কিটি বা জটিলতা বাড়বে। অর্থাত কাজের ডিমান্ড বাড়বে। এআই এর কারণে নিত্য নতুন অনেক অনেক সেক্টরে আরো অনেক কাজের অপরচুনিটি সৃষ্টি হবে। সেগুলোকে ডিল করতে গেলে ওভারঅল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এর সংখ্যা আরো বাড়বে।
এমনকি আমরা একটা ছোট খাটো অর্গানাইজেশন এআই আসার কারণে আমাদের এখানে চাকরির সংখ্যা তো কমিনে বরং বেড়ে গেছে। আমরা বেশ কয়েকজন এআই রিলেটেড ইঞ্জিনিয়ার এবং আরো সিনিয়র কিছু সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারকে হায়ার করেছি এআই রিলেটেড কিছু টুুলস বানানোর জন্য এবং আমরা যেভাবে শেখাই সেটাকে আরো বেশি ইফশিয়েন্ট করার জন্য। সো এআই কিন্তু চাকরি কমায় নি বরং বাড়াচ্ছে।
নাম্বার ০৪ -ডেভিন
একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এর কাজ শুধু কোডিং করানো না। একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যখন আর একটু অভিজ্ঞ হয় তখন কিন্তু সে সিস্টেমটাকে আর্কিটেক করে, ডিজাইন করে, কিভাবে ডিজাইন করলে আরো বেশি ইফিশিয়েন্ট হবে। এগুলো নিয়ে সে চিন্তা করে। রিয়েল ওয়ার্ল্ডের অনেক অনেক কেস তাকে ডিল করতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় যে রেডিমেট সলিউশন যেগুলো থাকে সেগুলো আমরা ইউজ করতে পারিনা। রেডিমেট প্যাকেজ আমরা ইউজ করতে পারি না। এগুলোকে কাস্টমাইজ করে নিতে হয়। এআই তো সেই জিনিসটা বুঝবেন না। আবার অনেক কমপ্লেক্স কমপ্লেক্স সিচুয়েশন আছে সেখানে ইনভেটিভভাবে বা ফিউচার অরিয়েন্টেড চিন্তা-ভাবনা করতে হয়।
তার জন্য এন্টারপ্রাইজ গ্রেড এর প্রজেক্ট গুলো কিন্তু টু ক্লোজ সোর্স। এগুলোর কোড কিন্তু ওপেন সোর্স প্রজেক্ট এর মত করে অ্যাভেলেবেল না। তো সেগুলোতে কিন্তু এ ধরনের এআই টুলস এক্সেস পাবে না। ক্লোজ সোর্স জিনিসের ভেতরে ইউজ করতে গেলে এই যে নলেজটা এটার ভেতরেই রাখতে হবে এবং সেটা শিখতে কিন্তু এই আইয়ের খবর হয়ে যাবে এবং ওইখানে যে কত রকমের ভালো কোড, খারাপ কোড, মিস কোর্ট, পুরনো কোড বা নতুন কোড এর জগা খিচুড়ি থাকে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।। লার্জ লার্জ প্রজেক্ট এর ভেতরে হাত না দিলে আসলে বোঝাই যায় না। সো মানুষের দরকার অবশ্যই অবশ্যই থাকবে।
নাম্বার ০৫ -ডেভিন
নতুন নতুন টুলস কিন্তু আসতে থাকবে। এটাকে কখনোই থামানো যাবেনা। মেধা বিকশিত হবেই। সেটা খারা হোক বা ভালো। ইনোভেশনটা কিন্তু কখনো বন্ধ হবে না। আজকে ডেভিন আসছে কয়দিন পরে হয়তো অন্যকোন কোন টুলস আসবে। একজন লার্নার, হার্ডওয়ার্কার বা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আপনার ফান্ডামেন্টাল কাজ হচ্ছে কন্টিনিউয়াসলি এক্সপ্লোর করা। নতুন একটা প্যাকেজ আসলে আপনি যেভাবে এক্সপ্লোর করবেন একইভাবে নতুন একটা প্রোগ্রামিং ভাষা যদি লঞ্চ হয় ইফেক্টিভ হয় সেটারও আপনি এক্সপ্লোর করবেন ট্রাই করবেন। একইভাবে নতুন একটা টুলস যদি বাজারে আসে সেটাকে ব্যবহার করা শিখতে হবে। কোন ভাবেই এড়িয়ে যাওয়া সঠিক কাজ হবে না।
দেখুন এআই আসলে নাথিং বাট এ স্পেশাল টুলস। এই টুলসটাকে আপনি অবশ্যই এক্সপ্লোর করবেন। আপনি এটাকে কাজে লাগানো চেষ্টা করবেন। এগুলো দিয়ে আপনি আপনার এফিশিয়েন্সি, প্রোডাক্টিভিটি এবং কাজের দক্ষতা যদি বাড়াতে পারেন তাহলে আপনার আগে যে ডিমান্ডা থাকতো বা আপনাকে দিয়ে যে পরিমাণ আউটপুট কোম্পানি পাইতো এখন আপনার সাথে এআই থাকার কারণে আপনি এবং এআই মিলে আউটপুটটা আরো অনেক বেশি দিতে পারবেন। ফলে কোম্পানি আপনাকে বেতনও বেশি দিতে চেষ্টা করবে। সুতরাং আপনারা যারা হার্ড ওয়ার্কার আছেন তাদের ডিমান্ড কখনো কমাবে না বরং বাড়াবে।
শেষ কথা
ফাইনাল আমি একটা কথাই বলবো সেটা হল আপনি যেটা করতে চান বা শিখতে চান সেটাতে ১০০% ফোকাস দেন। আপনার নলেজ এবং স্কিলটাকে শক্ত করেন পোক্ত করেন। একটা সময় সফলতা এমনিতেই ধরা দেবে। আপনি যদি আজ এই আই দেখে ভয় পান বা অন্য কোন টুলস দেখে ভয় পেয়ে যান তাহলে আপনি আসলে দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছেন। সেটাকে সাথে নিয়ে চলতে হবে। কোনভাবেই সেটাকে আপনি এভয়েড করতে পারবেন না। সুতরাং সেটাকে সাথে নিয়ে নিজেকে আরও আপডেট করুন নিজেকে আরও অভিজ্ঞ করুন তাহলে বাজারে কখনো আপনার কোন কাজের অভাব হবে না।
Leave a Comment