ডিপ ওয়েব: ডার্ক ওয়েব বনাম ডিপ ওয়েব।

Last Updated On:

ডিপ ওয়েব

ডিপ ওয়েব সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই মিস কনসেপশন আছে। অনেকেই ডিপ ওয়েবকে ডার্ক ওয়েব এর সাথে গুলিয়ে ফেলেন।

আরা পড়ুন: ডেভিন প্রযুক্তির নতুন বিস্ময়।

আমার আজকের এই আর্টিকেলে আমি ডিপ ওয়েব ও ডার্ ওয়েব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। ইন্টারনেট হল এক গভীর সমুদ্রের মতো। আর এই গভীর সমুদ্রের সমান ইন্টারনেটের কতটুকু অংশেই বা আমরা ব্যবহার করতে পারি। আপনাকে যদি বলি মাত্র পাঁচ ভাগ আমরা সচরাচর ব্যবহার করি। আপনি হয়তো  আমার কথা বিশ্বাসই করতে চাইবেন না কিন্তু এটাই বাস্তবতা। এই সমুদ্রের মধ্যে এমন অনেক কিছুই আছে যা আমাদের অজানা। আবার এমন অনেক কিছুই আছে যা আপনাকে রীতিমত মুগ্ধ করবে আবার অনেক কিছুই আপনাকে অবাক করে দিবে। এখানে ভালো মন্দ সবকিছুই আছে। আপনাকে সেগুলো উদ্ধার করার পদ্ধতি জানতে হবে। তাহলে আপনি এখান থেকে অনেক কিছুই শিখতে পারবেন। 

ডিপ ওয়েব

ডিপ ওয়েব মূলত ব্যবহার করা হয়ে থাকে বিভিন্ন তথ্যের নিরাপদ সংরক্ষণাগার হিসেবে আপনি হয়তো জেনে অবাক হবেন যে এই সাইটে বিভিন্ন নামী দামী কোম্পানি তত ওয়েবসাইটের বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য জমা হয়ে আছে।

সমগ্র ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা যায়

  1. সার্ফেস ওয়েব
  2. ডিপ ওয়েব
  3. ডার্ক ওয়ে

সার্ফেস ওয়েব

আমরা যে অংশটুকু সচরাচর ব্যবহার করতে পারি সেটাকে বলা হয় সার্ফেস ওয়েব অর্থাৎ যেটা আমরা বি,ভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে search করে ব্যবহার করতে পারে সেটা। এই সারফেস ওয়েব এর মধ্যে পড়ে গুগল, ইউটিউব ফেসবুক ইত্যাদি। এ সকল সাইটগুলো ছাড়াও শত শত লক্ষ লক্ষ এমন কি কোটি-কোটি ওয়েবসাইট রয়েছে এই সারফেস ওয়েভের আওতায়।

ডিপ ওয়েব

সারফেস ওয়েব ব্যবহার করতে আমাদের তেমন কোন সমস্যায় পড়তে হয় না। যে কোন সাধারণ পাবলিক এটা ব্যবহার করতে পারে। তারপরও এই অংশটা সমগ্র ইন্টারনেট দুনিয়ার মাত্র পাঁচ শতাংশ। অর্থাৎ আমরা সাধারণভাবে ইন্টারনেটের মাত্র ৫% ব্যবহার করতে পারি। তাহলে বাকি অংশগুলো কোথায় থাকে। আমার সম্পূর্ণ লেখাটি ধীরে ধীরে মনোযোগ দিয়ে পড়লে আশা করি উত্তর পেয়ে যাবেন।

ডিপ ওয়েব

সারফেস ওয়েভের ঠিক পরেই আসে ডিপ ওয়েব এর কথা। যদিও ডিপ ওয়েব সার্ফেস ওয়েব এর তুলনায় বৃহৎ। ডিপ ওয়েব হল সেই সকল ওয়েব যে গুলি ব্রাউজার এর মাধ্যমে ওপেন করা গেলেও তাদের কোন রেজাল্ট দেখা যায় না। সারফেস ওয়েবের তুলনায় অনেকটা বড় নেট হলো ডিপ ওয়েব। ডিপ ওয়েব ইন্টারনেটের সেই অংশ যা আমরা নরমাল ব্রাউজার দিয়ে এক্সেস করতে পারি না। ফর এক্সাম্পল আপনারা আপনাদের নরমাল ব্রাউজার দিয়ে এক্সেস করতে পারবেন না। এর জন্য আপনাদের অন্য একটি ব্রাউজার এর প্রয়োজন হবে। ডিপ ওয়েবে প্রবেশ করা সারফেস ওয়েবের তুলনা একটু বেশিই কঠিন কিন্তু যখন আপনি ডিপ ওয়েবে একবার এক্সেস করতে পারবে বা ডিপ ওয়েব এ থাকেন তখন আপনার আইডেন্টিটি মোস্ট অফ দা টাইম হিডেন থাকে।

আরো পড়ুন: ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে আরো জানতে ক্লিক করুন।

যারা একটু হলেও জানেন সারফেস ওয়েব এবং ডিপ ওয়েব সম্পর্কে এবং এগুলোর মধ্যে পার্থক্যটা কি তাদের মধ্যে অনেকেই এমনটা মনে করেন যে ডিপ ওয়েবে শুধুমাত্র ইলিগ্যাল এক্টিভিটিস গুলো হয়ে থাকে। যা একদমই সত্য নয়। ডিপ ওয়েবে বেশিরভাগ জিনিস হিডেন থাকে। কারন ডিপ ওয়েব এর একটি সিকিউরিটি ব্যবস্থা আছে। যে প্রাইভেসিকে দিন দিন আমরা সারফেস ওয়েবে হারিয়ে ফেলছে সেই প্রাইভেসি এখানে বেশ ভালো মতই বজায় থাকে। যে কেউ এখানে হিডেন থেকে যে কোন জিনিস কিনতে পারে। যে কোন জিনিস ক্রিয়েট করতে পারে। যে কোন জিনিস সার্চ করতে পারবে। যে কোন জিনিস জানতে পারবে এবং যেকোনো জিনিস পোস্ট করতে পারবে।

এখন যদি আমি আপনাকে বলি আপনি কখনো না কখনো ডিপ ওয়েব কে ব্যবহার করেছেন তাহলে কি আপনি আমার কথা বিশ্বাস করবেন? আপনি বিশ্বাস করেন বা না করেন আপনি ডিপ ওয়েব কে ব্যবহার করেছেন। এমনকি সেটা প্রতিদিনই ব্যবহার করছে। বিষয়টি আমি একটু খোলাসা করে বলছি, যেসব ওয়েবসাইটে আমাদেরকে লগইন করতে বলা হয় বা যেসব ওয়েবসাইটে আমাদের পাসওয়ার্ড থাকে সেগুলো কোন না কোন ভাবে ডিপ ওয়েব এর সাথে সংযুক্ত থাকে। ফর এক্সাম্পল আপনি যখন ফেসবুকে কিংবা গুগলে লগইন করেন তখন আপনি হয়তো দেখেছেন যে আপনি যখন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন তখন তা হিডেন থাকে এবং এই সকল পাসওয়ার্ড বা ইউজার আইডি গুলো এক জায়গায় জমা হয়ে থাকে এবং যেখানে এসব জমা হয়ে থাকে সেই জায়গাই হল ডিপওয়েব। 

ডিপ ওয়েবে এ সকল পাসওয়ার্ড এবং লগিন ডাটা জমা হয়ে থাকে। যেমনটা আমি আপনাদেরকে প্রথমেই বলেছিলাম যে এখানে একটি এক্সট্রা প্রাইভেসি এবং সিকিউরিটি থাকে। যার কারণে এসব লগইন ডিটেলস সেখানেই নিরাপদ থাকে। অনেকে এমনটি মনে করে থাকেন যে ডিপ ওয়েব এ শুধুমাত্র ইলিগাল বা অবৈধ কাজকর্মই হয়ে থাকে কিন্তু মোস্ট অফ দা টাইম সিকিউরিটি রিজন এর কারণে ওয়েবসাইট এর সেনসিটিভ ডাটা এবং অন্যান্য রিসোর্সের এখানে জমা থাকে তবে অনেক ইলিগেল এক্টিভিটিজও এখানে হয়ে থাকে এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই। 

এখন আমি ডিপ ওয়েব এর যে খারাপ বা অন্ধকার জগত আছে সেটা সম্পর্কে আপনাদের জানাবো। ডিপ ওয়েব ব্যবহার করতে হলে আমাদেরকে একটি আলাদা ওয়েব ব্রাউজার ইউজ করতে হবে। যেটাকে বলা হয় অনিয়ন রাউটার। এর নাম অনিয়ন রাউটার বা ব্রাউজার রাখা হয়েছে এ কারণে যে পেঁয়াজের যেমন ভিন্ন ভিন্ন লেয়ার থাকে এই ব্রাউজারেরো একইভাবে ভিন্ন ভিন্ন লেয়ার আছে। মাল্টিপল সেল এর নিচে আপনার আইডেন্টিটি একদম হিডেন হয়ে যায় এবং বারবার চেঞ্জ হওয়া আইপি অ্যাড্রেসের জন্য আপনার আইডেন্টিটি হিডেন থাকে এবং এর কারণে অনেক ক্রিমিনাল ডিপওয়েবে এসে অনেক ইলিগাল কাজও করে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় সেলিং ড্রাগস, সেলিং উইপেনস ইভেন সেলিং হিউম্যান অর্গানস।

ডিপ ওয়েবে আপনি এমন সব শক্তিশালী হ্যাকারস পেয়ে যাবেন যারা আপনার কাছ থেকে  কখনো কখনো মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে যে কারো ব্যাংক একাউন্ট হ্যাক, যে কারো ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক বা যে কারো ক্রেডিট কার্ডের ডিটেলস আপনাকে সংগ্রহ করে দিতে পারবে। এত পাওয়ারফুল হ্যাকারস আপনি ডিপ ওয়েব পেয়ে যাবেন। আপনার ভাগ্য যদি ভালো হয় (মন্দ অর্থে) তাহলে আপনার সাথে পরিচয় হয়ে যেতে পারে পৃথিবীর সবচেয়ে ইন্টেলিজেন্ট এবং প্রফেশনাল ক্রিমিনাল এরও।

ডিপ ওয়েব এ আরেকটি মারাত্মক জিনিস আছে। সেটা হল আপনি সেখানে হিট ম্যান হায়ার করতে পারবেন। কিংবা ক্রিমিনাল হায়ার করতে পারবেন। এমনকি আপনি সামান্য কিছু টাকার বিনিময় যে কাউকে খুনও করে ফেলতে পারে এমন ব্যাক্তিও সেখানে পেয়ে যাবেন। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যারা ডিপ ওয়েব এর সাথে যুক্ত থাকে তাদের বেশিরভাগই ইলিগ্যাল বা অবৈধ কাজ এর সাথে জড়িয়ে পড়ে। ডিপ ওয়েব এ এমন সব ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটি হয়ে থাকে। 

ডিপ ওয়েবে এই ধরনের যত সাইট রয়েছে যারা ড্রাগস উইপনস, হিউম্যান বডি পার্ট ইত্যাদি ইলিগ্যাল ভাবে ক্রয় বিক্রয় করে বা অন্যান্য ইলিগাল সার্ভিস প্রোভাইড করে থাকে তারা সবাই বিটকয়েনে পেমেন্ট নিয়ে থাকে। কারণ বিটকয়েন কে ট্রেস করা যায় না। কারণ এটা তো ঠিক যে, কেউ যদি ডিপ ওয়েব থেকে অবৈধভাবে কোন ড্রাগস বা উইপোনস বা হিউম্যান বডি পার্ট অর্ডার করে থাকে তাহলে সে অবশ্যই তার ট্রেস নিয়ে শঙ্কিত থাকবে। সে কখনোই চাইবে না তাকে কেউ ট্র্যাক করতে পারুক। এ জন্য এখানে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয় পেমেন্ট বিট কয়েন দিয়েই করে থাকে। কারণ বিটকয়েনকে ট্রেস করার ইম্পসিবল। তবে এমন সব সার্ভিস প্রোভাইড করা বেশিরভাগ সাইট স্ক্যাম হয়ে থাকে। এর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটা ওয়েবসাইট রিয়েল। যেখান থেকে আপনি রিয়াল হিট ম্যান হায়ার করতে পারবেন। ডিপ ওয়েব এর শেষের পাঁচ ভাগ হলো ডার্ক ওয়েব এর দখলে।

ইন্টারনেট নামক মহাসাগরের সবার নিচেই থাকে ডার্ক ওয়েব। এটাকে অনেকে ইন্টারনেটের আন্ডারগ্রাউন্ড বলে থাকে এবং অনেকেরই ভুল ধারণা আছে এমনটা যে অনেকে মনে করেন এটাই মূলত ইন্টারনেটের বেশিরভাগ অংশ। ডার্ক ওয়েব এবং ডিপ ওয়েব নামগুলো বেশ রহস্যময় তাই না। এই নাম গুলো শুনলেই গায়ে কেমন যেনো একটা কাটা দেয় তাই না বাট এই জিনিসগুলো সম্পর্কে আসলে আমাদের মধ্যে বেশ কিছু ভুল ধারণা আছে বা মিস কনসেপশন আছে। এই পযায়ে এসে আমি সেই ভুল ধারণা গুলো ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করব। তো চলুন শুরু করা যাক।

ডিপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েব কি আলাদা

আমরা সাধারণত তিন ধরনের ওয়েভের কথা শুনি। তার মধ্যে একটা হচ্ছে সারফেস ওয়েব। এটাকে আমরা টিপ অফ দা আইসবার্গ বলে থাকি।  সেকেন্ড হচ্ছে ডিপ ওয়েব। আরেকটি হচ্ছে ডার্ক ওয়েব। এখন টিপ অফ দা সারফেস ওয়েভ যেটা সেটাতে আমরা সবাই অ্যাক্সেস করতে পারি। গুগলে সার্চ করলেই আমরা সেটা পাই। সাধারণ পাবলিক সেটাতেই প্রবেশ করতে পারে। সবার জন্য মোটামুটি এটা ওপেন। এটাকেই বলা হয় সারফেস ওয়েব। যেটাকে বলা হয় ট্রিপ অফ দা  আইসবার্গ।

ডিপ ওয়েব 

অনেকেই এমনটা ভেবে থাকেন যে ডিপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েব মূলত একই জিনিস কিন্তু বাস্তবে এই দুইটা আলাদা। ডার্ক ওয়েব এটা অন্যান্য ওয়েভের মত এতটা ওপেন না। এখানে এক্সেস করার জন্য স্পেশাল পারমিশন লাগে। উদাহরণ স্বরুপ, কোন একটা অর্গানাইজেশনের ওয়েবসাইট এর ব্যাক এন্ড। সেটা এক্সেস করার জন্য কিন্তু আপনাকে ক্রেডিনশিয়াল নিতে হবে। সো সেই অর্গানাইজেশনের এমপ্লয়ি ছাড়া বাইরের কেউ কিন্তু গুগলে সার্চ করে এই ওয়েবসাইটের ব্যাক এন্ড ডাটা গুলো বের করতে পারবেনা বা সবাই এক্সেস করতে পারবেনা। সেই সাথে মেবি গুগল ড্রাইভ, ড্রপবক্স কিংবা এই টাইপের অনলাই ফাইল শেয়ারিং ওয়েবসাইটের মধ্যে আপনার যে ব্যাকআপ ফাইল রাখা আছে সেই ফাইলগুলো কিন্তু চাইলেই কেউ অ্যাক্সেস করতে পারবে না। 

আরো পড়ুন: চ্যাট জিপিটি প্রযুক্তির এক নতুন দিগন্তের ‍উন্মোচন।

গুগলে সার্চ করলেও পারবে না আবার আপনার অনুমতি ছাড়াও সেখানে ঢুকতে পারবে না অথবা আপনি যদি শেয়ার না করেন তাহলে কেউ কিন্তু এগুলো পাবেন না। সো আপনার এই ফাইলগুলো কিন্তু ডিপওয়েব এরই একটি পার্ট। সো ডিপ ওয়েব হলো সেই ইন্টারনেটের একাট অংশ যে অংশটা সহজে কেউ একসেস করতে পারে না। সহজে বলতে মানে যার শুধু পারমিশন আছে সেই একসেপ্ট করতে পারবে অন্য কেউ অ্যাক্সেস করতে পারে না। শুরুতেই আমি বলেছি যে ইন্টারনেটের আমরা শুধুমাত্র ৫ ভাগ ব্যবহার করতে পারি। বাকি ৯৫ ভাগ আমাদের চক্ষুর অন্তরালে থাকে। ঠিক তেমনিভাবে ডিপ ওয়েব এর শেষের পাঁচ ভাগ হলো ডার্ক ওয়েব এর দখলে।

ডার্ক ওয়েব

ডার্ক ওয়েব হচ্ছে ইন্টারনেটের সেই একটা পার্ট যেটা ভিজিট করার জন্য স্পেশাল একটা ব্রাউজার লাগে। যেটা অনেক বেশি সিকিউর এবং সেখানে বেশিরভাগ সময় ইলিগাল কাজকর্ম হয়ে থাকে। যে কারণে এই সাইট নটোরিয়াসলি এত ফেমাস এবং ডার্ক ওয়েব ভিজিট করতে হলে আপনাকে সেই ওয়েবসাইটের লিংক জানতে হবে। এছাড়া কিন্তু কোথাও সার্চ করে আপনি ডার্ক ওয়েব এর ওয়েব সাইটে ভিজিট করতে পারবেন না। আই হোপ এই মিস কনসেপশনটা ভেঙেছে। ডিপ ওয়েব এবং দারুণ ওয়েব কিন্তু কমপ্লিটলি দুই জিনিস। 

কোনটি বেশি বড়? ডার্ক ওয়েব নাকি ডিপ ওয়েব?

সেকেন্ড মিস কনসেপশনটা হচ্ছে অনেকে বলে থাকে যে, ডার্ক ওয়েব সার্ফেস ওয়েব এর থেকে অনেক বড়। এটা কিন্তু ভুল। actually যদি বলেন যে ডিপ ওয়েব সার্ফেস ওয়েব এর থেকে অনেক বড় তাহলে ঠিক আছে কারণ ডিপ ওয়েব এ প্রচুর পরিমাণে ডেটা থাকে যা ফলে ডিপ ওয়েবটা অনেক বড় সার্ফেস ওয়েব থেকে। সারফেস ওয়েব টাকে আমরা সেকেন্ড পজিশনে রাখতে পারি কিন্তু ডার্ক ওয়েব যেটা সেটা থার্ড পজিশনে রাখতে হবে কারণ ডার্ক ওয়েব এর সাইজ কিন্তু খুব একটা বড় না। সেখানে ওয়েবসাইটের পরিমাণ অনেক কম। যদিও ডার্ক ওয়েব এ যে অ্যাক্টিভিটিস গুলো হয় সেগুলো মিস্টোরিয়াস খুবই নটোরিয়াস। বাট সেটার সাইজ কিন্তু অত বড় না। সো নেক্সট টাইম যদি কাউকে বলতে শুনেন যে ডার্ক ওয়েব হচ্ছে সারফেস এর থেকে বড় তখন তাকে কারেক্ট করে বলবেন ডার্ক ওয়েব না বরং ডিপ ওয়েব হচ্ছে সারফেস এর চাইতে থেকে অনেক বড় ডার্ক ওয়েব কিন্তু আকারে অনেক ছোট। 

ডার্ক ওয়েবে শুধু ক্রিমিনাল এক্টিভিটি হয়

তিন নম্বর মিসকনসেপশন হচ্ছে ডার্ক ওয়েবে শুধুমাত্র ক্রিমিনাল এক্টিভিটি হয় বা ইলিগাল কাজগুলো হয়। এটা কিন্তু ১০০% সঠিক না। ডার্ক ওয়েবটা কিন্তু শুধুমাত্র ইলিগ্যাল এক্টিভিটি বা ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটির জন্যই তৈরি করা হয় নি। কারণ হচ্ছে ডার্ক ওয়েব এর কিছু ভালো কাজও আছে। আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন যে নিউইয়র্ক টাইমস, সিআইএ এই টাইপের কিছু অর্গানাইজেশন আছে যাদের কিন্তু ডার্ক ওয়েব সাইটে নিজস্ব ওয়েব সাইটে আছে। এমন কি ফেসবুকেরও আছে। সো তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সিক্রেট কাজকর্ম তাদের এই ডার্ক ওয়েব এ করে থাকে।  যেগুলো সাধারণ মানুষের জানার দরকার নাই বা তারা জানতেও পারেনা বা তারা চায় না এটা কেউ জানুক কিন্তু সেগুলো টোটালি ক্রিমিনালাইজ এক্টিভিটিস না। এরকম অনেক কাজ আছে। যেমন ধরেন মিলিটারি কমিউনিকেশনও কিন্তু সিকিউরড নেটওয়ার্কে হয়।  আর ডার্ক ওয়েবকে আমরা  যত নটোরিয়াস মনে করি এটা কিন্তু অতটা মিসটোরিয়াস বা নটোরিয়াস না। 

 

এটার টার্মটা কিন্তু খুব সিম্পল। এটা জাস্ট সিকিউরড একটা প্লাটফর্ম। যেখানে আপনি যদি অ্যাক্সেস করেন অ্যাক্সেস করার যে ওয়েটা আছে সেটা দিয়ে সঠিক ভাবে এক্সেস করেন তাহলে কেউ আপনাকে ট্রাক করতে পারবে না। জাস্ট সিকিউরডলি ওয়েবসাইটটা ভিজিট করতে পারবেন এটাই হচ্ছে ডার্ক ওয়েব। ডার্ক ওয়েব সাইটে অনেক ভালো কাজ হয়। যেমন উইকিলিক্স নামে একটা ওয়েবসাইট আছে।   যারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লিক্স তারা পাবলিশ করে থাকে। এগুলো মোটেও ক্রিমিনাল এক্টিভিটি না। তবে এগুলো ইলিগাল। যেহেতু তার এগুলো লুকিয়ে পাবলিশ করছে। বাট সব সময় কিন্তু ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটিজ ডার্ক ওয়েব এ হয় না। কিছু পজিটিভ কাজ হয়। 

ইচ্ছা করলেই এখানে যে কেউ অবৈধ বা ইলিগাল কাজ করতে পারে।

ফোর্থ মিস কনসেপশন হচ্ছে যে কেউ চাইলে ডার্ক ওয়েব এ ভিজিট করে অস্ত্র কিনতে পারবে কিংবা যেকোনো এলিগ্যাল কাজ করতে পারবে এটাও কিন্তু একটা ভুল ধারণা। আপনি যদিও বা ডার্ক ওয়েবে এক্সেস করতে পারবেন কিন্তু ডার্ক ওয়েব যাওয়ার পরে যে ক্রিমিনালাইজ অ্যাক্টিভিটিস গুলা আছে সেগুলো কিন্তু সবাই করতে পারবে না। এগুলো শুধু ক্রিমিনাল যারা তারাই পারবে। কারণ হচ্ছে ডার্ক ওয়েবে যে ওয়েবসাইট গুলো ওইসব বাজে কাজের জন্য ইউজ করা হয় সেগুলোর ওয়েবসাইট শুধুমাত্র সেই লোক গুলোই জানে। সো পিয়ার টু পিয়ার এগুলো ট্রান্সফার হয়। একজন থেকে আরেকজন আরেকজন থেকে আরেকজন এভাবে কিন্তু তারা ভিজিট করে। সো আপনি জাস্ট ম্যাজিকালি ডার্ক ওয়েব এ একসেস করে ইলিগাল কাজ করে ফেলবেন ব্যাপারটা মোটেও এরকম না। আর আপনার মাথায় যদি ঘুরতে থাকে যে আপনি  ট্রাই করবেন প্লিজ ডোন্ট ট্রাই দিস। এর কারণ হচ্ছে আমাদের পাঁচ নম্বর মিসকনসেপশন 

অনেকেই বিশ্বাস করে ডার্ক ওয়েব এ ভিজিট করলে আপনাকে কোন ভাবেই ট্রেস করা পসিবল না বা ট্রাক করা পসিবল এটাও কিন্তু হানডেট পারসেন্ট সঠিক না কারণ এখন টেকনোলজি এত এত অ্যাডভান্স হয়েছে যে এবং এই জিনিসগুলো নিয়ে এত পরিমাণ রিচার্জ হচ্ছে যে খুব খুব ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর ভুল যদি আপনি করে ফেলেন তাহলে কিন্তু আপনাকে খুঁজে বের করা পসিবল হবে। আপনি যদি ব্রাউজার ইউজ করার সময় ফুল স্ক্রিন না করে ছোট করে রাখেন আপনার স্ক্রিনের রেজুলেশন থেকে শুরু করে আরো কিছু ইনফরমেশন নিয়ে তারা কিন্তু আপনার লোকেশন ট্রেস করতে পারবে। 

আপনার আইডি ট্রেস করতে পারবে। ইভেন আপনি ডার্ক ওয়েব এ যে ওয়েবসাইটটা ভিজিট করছেন এমন অনেক সময় হয় যে সিকিউরিটি ফোর্সরা সে ওয়েবসাইটটাকে ট্র‌্যাক করে এবং এরপরে সেখানে যে ভিজিটর গুলা আছে নানান ভাবে তারা সেই ভিজিটর গুলোকে ট্রাক করতে পারে সো ডার্ক ওয়েব কিন্তু আনট্রেসেবল না। সুতরাং মাথায় চিন্তা ও আনবেন না যে ডার্ক ওয়েব এ এসে ইলগাল কোন কিছু করে ফেলবেন। 

শুধু মাত্র টর ব্রাউজার দিয়ে ডার্ক ওয়েব এ ঢোকা যায়

ফাইনাল মিসকনসেপশন হচ্ছে আমরা অনেকেই মনে করি যে ডার্ক ওয়েব এ এক্সেস করতে হলে শুধুমাত্র টর ব্রাউজার ইউজ করতে হয়। টর ছাড়া অন্যকোনভাবেই ডার্ক ওয়েব এক্সেস করা যায় না ব্যাপারটা কিন্তু মোটেও এরকম নয়। টর হচ্ছে ডার্ক ওয়েব এর একটা সার্ভিস। এরকম আরো অনেক এননিমাস নেটওয়ার্ক আছে। উদাহরন হিসেবে বলা যায়, ফ্রি-নেট, আই-টু-পি যারা হাউজ অফ কার্স দেখেছেন তারা হয়ত জানবেন আই-টু-পি এবং ফ্রি নেটও কিন্তু এনোনিমাস নেটওয়ার্ক। যেগুলো ডার্ক ওয়েবরই একটা অংশ। এই ছিল টোটাল ভুল ধারণা এবং এবং সম্পর্কে আপনাদেরকে আমি ক্লিয়ার আইডি দিতে পেরেছে একটু কমেন্টে জানাতে পারেন 

ডার্ক ওয়েবে কি কি অপরাধমূলক কাজ হয়

আমরা ইন্টারনেটের প্রায় ৫% ব্যবহার করতে পারি। বাকি ৯৫ পার্সেন্ট মূলত লুকানো থাকে যেখানে যত সহজে আপনি ফুড পান্ডা থেকে খাবার অর্ডার করতে পারেন ঠিক তেমনি এখানে এসে আপনি ততটাই  সহজে ক্রিমিনাল কাজ করতে পারবেন বা যে কারো কাছ থেকে আপনি অস্ত্র কিনতে পারবেন বা মাদকদ্রব্য কিনতে পারবেন। যতটা সহজ আপনি নেটফ্লিক্স থেকে মুভি দেখতে পারেন লোক ততটা সহজে এখানে অন্যজনকে টর্চার হতে দেখে। আপনি এখান থেকে কারুর ব্যাংক একাউন্ট হ্যাক করার জন্য হ্যাকার করতে পারেনকথাগুলো একটু ট্রেডার মুভির মত মনে হল এটাই আসলে ডিজিটাল দুনিয়ার সবচেয়ে চরম সত্য কথা।

শেষ কথা

অনলাইনে যত ওয়েট আছে তার কোনটি শুধুমাত্র ভালো বা শুধুমাত্র খারাপ এমনটি বলার কোন সুযোগ নেই প্রত্যেকটি ভালো খারাপ এর মিশ্রণ আছে আমাদের জানার ঘাটতির কারণে আমরা অনেক সময় ভুল ধারণা পোষণ করে থাকে ওয়েভের সাথে ডার্ক বা ডিপ কথাটি সংযুক্ত থাকে প্রধানের সময় আমরা এসব সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করি। আশা করি আমার আজকের এই আর্টিকেল পড়ার পরে লিখিত তিনটি ওয়েব সম্পর্কে আপনাদের ভুল ধারণা অবসান হবে আমার আর্টিকেলটি যদি পছন্দ হয় তাহলে একটি কমেন্ট করতে ভুলবেন না ধন্যবাদ

Tags

You might Also Enjoy.....

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম (How to Buy Train Tickets Online)

Read More

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই

Read More
গর্ভবতী ভাতা

গর্ভবতী ভাতা: মাতৃত্বকালীন আর্থিক সহায়তার অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া

Read More

3 responses to “ডিপ ওয়েব: ডার্ক ওয়েব বনাম ডিপ ওয়েব।”

  1. […] আরো পড়ুন: ডার্ক ওয়েব কি? কি কাজে এটা ব্যবহৃত হয়। […]

  2. […] আরো পড়ুন: ডার্ক ওয়েব কতটা ভয়াবহ? […]

  3. […] আরো পড়ুন- ডিপ ওয়েব ও ডার্ক ওয়েব বিস্তারিত। […]

Leave a Comment

Join Us

Recommended Posts

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম (How to Buy Train Tickets Online)

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই

গর্ভবতী ভাতা

গর্ভবতী ভাতা: মাতৃত্বকালীন আর্থিক সহায়তার অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া

জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম

জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম: একটি সম্পূর্ণ গাইড

জমির মৌজা ম্যাপ

জমির মৌজা ম্যাপ: কিভাবে খুঁজে বের করবেন ও ডাউনলোড করবেন?

কিমি

কিমি Kimi: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন দিগন্ত

জমির স্ট্যাম্প লেখার নিয়ম

জমির স্ট্যাম্প লেখার নিয়ম: সম্পূর্ণ গাইডলাইন

About this site

সাইটটি মূলত টেকনোলজি রিলেটেড। নিত্য নতুন টেকনোলজি সম্পর্কে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। 

 

 

 

 

 

Top Rated Posts

প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন

প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন

জমির খাজনা চেক

জমির খাজনা চেক

পড়া মনে রাখার উপায়

পড়া মনে রাখার উপায়

জমির মালিকানা বের করার উপায়

জমির মালিকানা বের করার ‍উপায়

Recommended Posts

গুগল বার্ড কি?

গুগল বার্ড কি? গুগল বার্ড এর আদ্যোপান্ত।

ডিপফেক প্রযুক্তি

ডিপফেক প্রযুক্তি: সেরা ১২ টি ডিপফেক অ্যাপস। 

ডিপ ওয়েব

ডিপ ওয়েব: ডার্ক ওয়েব বনাম ডিপ ওয়েব।

ডেভিন

ডেভিন : প্রযুক্তির নতুন বিস্ময়।